বৃহস্পতিবার-১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-৯ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা বিভিন্ন স্থানে বাঁধে দেখা দিয়েছে ফাটল ও ভাঙন

উৎপল বড়ুয়া, সিলেট প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। সবকটি নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তলিয়ে গেছে সড়ক ও হাটবাজার। কোথাও কোথাও বাড়ি-ঘর, মাছের ঘের ও আমনের বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় লোকজন ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জে বন্যা দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জ শহরে মধ্যবাজারে পানি উঠায় অনেক দোকান পাট বন্ধ রয়েছে। দোয়ারা বাজারে ভেঙ্গে গেছে চিলাই নদীর বেড়িবাঁধ। বিভিন্ন সড়কে দেখা দিয়েছে ফাটল ও ভাঙ্গন। সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, টানা আরো ১০ দিন সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হবে। তবে, আজ রোববার প্রচুর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সিলেট আবহাওয়া অফিস গতকাল শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত (২৪ ঘন্টায় ১০৭ মি: মি:) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। এদিকে, গতকালও বিভিন্ন নদনদীর পানি বিপদ সীমার ওপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর মধ্যে দুপুর ১২ টায় সুনামগঞ্জের সুরমা নদীতে ষোলঘর পয়েন্টে পানির প্রবাহতা ৮.৩৭ সেন্টিমিটার রেকর্ড করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। যা বিপদ সীমার ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, কানাইঘাটে সুরমা ও লোভা নদী বিপদসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সিলেট সদর: টানা বৃষ্টি এবং উজানের ঢলে সিলেট শহরতলীও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে জালালাবাদ- হাটখোলা ও মোগল ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রামের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া খাদিম নগর , ৮নং কান্দিগাঁওসহ প্রায় সবকটা ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এদিকে হাঁটখোলার উমাইরগাঁও, দখড়ি বড় কাপন, নন্দিরগাও, শিবেরবাজার, হাটখলো, রাজারগাও, জালালাবাদের মানসিনগর, রায়েরগাও, আলীনগর, কালিরগাওসহ পুরো ইউনিয়ন, কান্দিগাঁও ছামাউরাকান্দি, নীলগাঁও, নলকট, মোগলগাঁও ৪নং ওয়ার্ড, খাদিমনগর আলীনগর, ঘোড়ামারা, ছয়দাগ, গনকিটুক, বাউয়ারকান্দি, বাইশটিলা, রঙ্গিটিলা, পীরেরগাও, মধুটিলা, মোকামবাড়ি, বাইলার কান্দি, রইরকান্দি, শিমূল কান্দি, যুগলটিলা, ছালিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগ পড়েছেন বাসিন্দারা।
অন্যদিকে বিভিন্ন স্থানে সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিচ্ছিন্ন রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। মানুষের ন্যায় বন্দি গবাদি পশুও। এতে দেখা দিতে পারে গবাদি পশুর খাদ্যসংকট। ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দুর্গত এলাকার লোকজন। কোম্পানীগঞ্জ : কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) থেকে আবিদুর রহমান জানান, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আকস্মিক বন্যায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মহাসড়ক ব্যতিত উপজেলার সকল কাঁচা-পাকা রাস্তা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। থানাবাজার, টুকেরবাজারসহ বেশিরভাগ বাজারঘাট তলিয়ে গেছে। উপজেলা পরিষদের মাঠ, থানা রোড ও টিএন্ডটি রোডে কোমর সমান পানি।এছাড়া, ঢালারপাড়-মোস্তফানগর বেড়িবাঁধ, চাঁনপুর গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ি, বিভিন্ন এলাকার কাঁচা-পাকা রাস্তা ও কালভার্টের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে সর্তক থাকার পরামর্শ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। উপজেলার ৩৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে। বানভাসি লোকজন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য জানান, বন্যাকবলিত এলাকার খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। সেই সাথে বন্যার্তদের জন্য ত্রাণের চাহিদা জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। গোয়াইনঘাট : গোয়াইনঘাট (সিলেট) থেকে মনজুর আহমদ জানান, অব্যাহত বৃষ্টিপাতের মাঝে কিছু এলাকায় পানি কমলেও আরো নতুন কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নতুন করে বন্যা দেখা দেয়া জায়গাগুলোর মধ্যে তোয়াকুল, ডৌবাড়ি ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়ন রয়েছে। সারি ও পিয়াইন নদী বিপদসীমার ওপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গোয়ানঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব জানিয়েছেন, উপজেলার সিংহভাগ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে রাখা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষনিক মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। জৈন্তাপুর : জৈন্তাপুর (সিলেট) থেকে নুরুল ইসলাম জানান, অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নতুন করে জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে দরবস্ত, ফতেহপুর ও চিকনাগুল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা রয়েছে। জৈন্তাপুর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন মানিক জানিয়েছেন, বন্যার্থদের মাঝে কোন ত্রাণ সহায়তা এসে পৌঁছেনি। তবে, উপজেলা প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বলেও জানান তিনি।
কানাইঘাট : কানাইঘাট (সিলেট) থেকে আলা উদ্দিন জানান, মোষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে কানাইঘাটের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই বন্যা দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বারিউল করিম খান বড়চতুল ও লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। টানা বৃষ্টিপাতে কানাইঘাট পৌর এলাকাতে জলাববদ্ধতা দেখা দেয়ায় লোকজন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সুনামগঞ্জ : শাহজাহান চৌধুরী সুনামগঞ্জ থেকে জানান, গতকাল শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের কাজির পয়েন্ট দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সুরমা নদীর পানি। এছাড়াও শহরের বড়পাড়া, তেঘরিয়া, মধ্যবাজার, উকিলপাড়া, নবীনগরে সুরমা নদীর পানি ডুকেছে।মধ্যবাজারের হোমিও চিকিৎসক ডা. দেবব্রত বণিক জানান, শুক্রবার রাত থেকে মধ্যবাজারে নদীর পানি উঠেছে। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও সুরমা নদীর পানি প্রবেশ করেছে। একই বক্তব্য শহরের বড়পাড়ার বাসিন্দা মীর সুলতানের। সুলতান জানান, রাত থেকে তাদের বসত ঘরে বন্যার পানি ঢুকতে শুরু করে। গতকাল দুপুর ১২ টায় সুরমা নদীতে শহরের ষোলঘর পয়েন্টে পানির প্রবাহতা ৮.৩৭ সেন্টিমিটার রেকর্ড করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। যা বিপদ সীমার ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৯০ মিলিমিটার। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পওর-১ মো. সবিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভরতে চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৪৯৫ মিলিমিটার। ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত হলে ওই বৃষ্টির পানি সুরমা নদীতে এসে পড়ে। চেরুপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান তিনি।এদিকে, সীমান্তবর্তী উপজেলা তাহিরপুর, বিশ^ম্ভরপুর ও দোয়ারাবাজারের গ্রামীণ সড়ক ডুবে গিয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ^াস জানান, তার অফিসের নীচ তালয় বন্যার পানি ঢুকেছে। এছাড়াও উপজেলা সদরের সবকটি রাস্তা ডুবে গেছে। বিশ^ম্ভরপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, তার অফিসেও বন্যার পনি ঢুকেছে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্ধসন সিংহ জানান, বন্যার ঝুকিতে রয়েছে তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন,দক্ষিণ বড়ল ইউনিয়ন ও বালিজুরি ইউনিয়ন।সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আব্দুল আহাদ জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষে বন্যার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। তবে, এখনও ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর পাওয়া যায়নি। পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী মওজুদ আছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো ও প্রস্তুত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের এব্যপারে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। ছাতক : ছাতক (সুনামগঞ্জ) থেকে সৈয়দ হারুন অর রশীদ জানান, ছাতকে বন্যায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন অংশের উপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।যেকোন সময় উপজেলা সদরের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওযার আশংকা রয়েছে। ছাতক শহরের প্রধান সড়ক ছাড়া প্রায় সবকটি সড়কে পানি উঠে গেছে। শহরের অলি-গলি, বাসা-বাড়ি ও আঙ্গিনায় বন্যার পানি প্রবেশ করায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন শহরবাসী। বড় ধরনের বন্যার আশংকা করছেন সাধারণ মানুষ।এদিকে, উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্লাবনসহ সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের প্রায় সবকটি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। পানিবন্দি এসব মানুষ বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়েছে। এছাড়া, উপজেলার নোয়ারাই, কালারুকা, জাউয়া, চরমহল্লা, ছৈলা আফজলাবাদ, ভাতগাও সহ সবকটি ইউনিয়নের অনেক ঘরবাড়ি, দোকানপাট বন্যায় প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত বন্যাকবলিত মানুষের জন্য কোন আশ্রয় কেন্দ্র খোলা বা কোন সরকারী বেসরকারী ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের খবর পাওয়া যায়নি।গতকাল শনিবার বিকেলে ছাতকে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫৫ সেন্টিমিটার, চেলা নদীর পানি বিপদসীমার ১৬৫ সেন্টিমিটার ও পিয়াইন নদীর পানি ১৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। প্রবল বর্ষণে সুরমা, পিয়াইন ও চেলা নদীতে পাথর ও বালুবাহী বার্জ-কার্গো ও বাল্কহেডে লোডিং-আনলোডিং প্রায় বন্ধ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম কবির জানান, কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতির সার্বক্ষনিক খবরা-খবর রাখা হচ্ছে।এদিকে, বন্যার মধ্যে আকস্মিক ঘুর্নিঝড়ে উপজেলার ধারন বাজার এলাকায় দোকানপাট ও গাছপালার ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বিকেলে আকস্মিক ঘুর্নিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য মহিবুর রহমান মানিক। এসময় তার সাথে ছিলেন ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম কবির, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাদাত লাহিন ও ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তফা কামাল। দোয়ারাবাজার : দোয়রাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে তাজুল ইসলাম জানান, তিনদিনের অভিরাম ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দোয়ারাবাজারের ৭ ইউনিয়নের ৫০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
পানিতে ভেসে গেছে শতাধিক পুকুরের অন্তত কোটি টাকার মাছ। ঢলের তোড়ে পানিতে তলিয়ে গিয়ে স্থানে স্থানে ফাঁটল ও ভাঙনে উপজেলা সদরের সাথে ৭ ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সুরমা, চেলা, মরা চেলা, খাসিয়ামারা, চিলাই, কালিউরি ও ছাগলচোরাসহ সকল নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সকল হাওর খাল-বিল ইতোমধ্যে ভরে গিয়ে উপজেলঅর সবকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে পড়েছে।সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মামুনুর রশীদ জানান, আজবপুর, খৈয়াজুরি, টেংরাটিলা, মহব্বতপুর, বরকত নগর, গিরিশ নগর, ভূজনা, শরীফপুর, নুরপুর, আলীপুর, কাউয়াগড় ও টিলাগাঁওসহ ১৫ গ্রামের দুই শতাধিক বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। সবকটি পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। দোয়ারাবাজার-বগুলা রাস্তায় সংস্কার করা মোকামের ভাঙার পাশে নতুন করে ভাঙন ছাড়াও কাউয়াগড়-ইসলামপুর-মহব্বতপুর কাাঁচা রাস্তায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। মহব্বতপুর বাজারে হাটু সমান পানি উঠেছে। বগুলা ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ক্যাম্পেরঘাটের পার্শ্বে চিলাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে ক্যাম্পেরঘাট ও ইঁদুকোনাসহ ৮-১০টি গ্রামের আড়াই শতাধিক বাড়িঘরে পানি উঠতে শুরু করায় মাছের পুকুরগুলোও অচিরেই তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লক্ষীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিরুল হক বলেন, পানির তীব্রতায় আমার ইউনিয়নের ১৫-২০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। মান্নারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা আজিজ বলেন, সুরমা তীরবর্তী আমবাড়ি, যুগিরগাঁও ও ধনপুর গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে কোমর সমান পানি, আমবাড়ি মাদ্রাসা রস্তিাটিও ইতিমধ্যে তলিয়ে যাচ্ছে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ইউনিয়নের বাকি গ্রামগুলোও তলিয়ে যাবে। নরসিংপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমদ বলেন, মন্তাজনগর, নছরনগর, সারপিননগর, বীরেন্দ্রনগর, শামারগাঁও, শ্রীপুর, উত্তর শ্রীপুর, তেরাপুর , রঘারপাড়সহ অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। খামারিদের মাছের পুকুরগুলোও তলিয়ে গিয়েছে। নরসিংপুর-নোয়ারাই রাস্তা, সোনালী চেলা-ফকিরটিলা রাস্তা, নরসিংপুর-বালিউরা-দোয়ারাবাজার রাস্তা তলিয়ে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। দোয়ারাবাজার সদর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল বারী জানান, ঢলের তোড়ে শুক্রবার বিকালে উপজেলা সদরের দুটি দোকান ধসে সুরমা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। টেবলাই, বড়বন্দ, লামা সানিয়া, নৈনগাঁও, মাঝেরগাঁও ও উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন গ্রামের অধিকাংশ মাছের পুকুর ভেসে যাওয়ায় কয়েক লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন খামারিরা। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার বগুলা ইউনিয়নস্থ চিলাই নদী পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিব্বির আকন্দ (শাব্বির) মুঠোফোনে জানান, আলমখালী (উত্তর) নামক স্থানে চিলাই নদীর বেঁড়িবাধ ভেঙে গিয়ে তলিয়ে গেছে শতাধিক হেক্টর তোড় আসা আউশ ধান ও আমনের বীজতলা।

 
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on telegram
Telegram
Share on skype
Skype