
ময়মনসিংহ বিভাগের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার পদধ্বনি। নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানির নিচে।
সূত্র জানায়, উত্তরে মেঘালয় থেকে পাহাড়ী ঢলে এ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলা, নেত্রকোণার দূর্গাপুর, কলমাকান্দা, খালিয়াজুড়ি, মোহনগঞ্জ, মদন, কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা, মিটামইন, অষ্টগ্রাম, বাজিতপুর, কুলিয়ারচর ও সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা, মধ্যনগর, মইশখোলা, তাহিরপুর, বাতাঘাট, সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, জগন্নাথপুর,, শাল্লা, দিরাই ও জামালগঞ্জ অঞ্চলের কয়েক লক্ষ হেক্টর জমির পাকা, আধাপাকা ধান, এক পক্ষ কালের মধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উল্লেখ করা যায়, মইশখোলা বাজারটি পানির তোড়ে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে এ অঞ্চল গুলোতে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, বিচ্ছিন্ন রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। মইশখোলা থেকে একজন ভুক্তভোগী মুঠোফোনে জানান, বাজারে হাঁটুপানি। ধর্মপাশা থেকে রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি মুঠোফোনে জানান, তাদের পরিবারের প্রায় দেড়শ একর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি জানান, এ অঞ্চলে বাড়ীঘরে হাঁটুপানি। মোহনগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ, গৌরীপুর, জগন্নাথগঞ্জ ঘাট এলাকায় রেলপথে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
সূত্র জানায়, মোহনগঞ্জের অদূরে অতিথপুর স্টেশন এলাকার ইসলামপুরে রেলওেয়ের একটি ছোট ব্রীজ পানির তোড়ে বিধ্বস্ত হওয়ায় এ অঞ্চলের সাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। অপরদিকে সড়ক যোগাযোগ ও একই অবস্থা।
এসব অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ লোক পানিবন্ধী অবস্থায় আছে, এ কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যের চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার কারণে মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। এসব অঞ্চলে ইতিমধ্যে ঠান্ডাজনিত জ্বর ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসক জানায় ওষুধপত্র ও স্যালাইনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে মানুষের রোগাক্রান্তের হার বৃদ্ধি পাবে। নেত্রকোণা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা জেলার ৬ টি উপজেলার ৩৯ টি ইউনিয়ন পাহাড়িঢল ও অতিবৃষ্টিতে বন্যা কবলিত হয়েছে। সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ৩৬ সেঃমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কংশনদের বাঁধের একটি অংশে ফাটল দেখা দেয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করা হচ্ছে । প্রায় ৪৭৩ হেক্টর জমির আউশ ধান ও সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। এ পর্যন্ত বন্যাদূর্গত মানুষদের জন্য ১৮৮ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তাতে প্রায় ১৬১৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরবর্তীতে রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হবে। এছাড়াও বন্যা কবলিত এলাকায় বিতরণের জন্য ৬৮ মেঃ টন চাল, ২,৫০,০০০ টাকা ও ২,০০০ প্যাকেট শুকনো খাবার উপ-বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বন্যা পরিস্হিতি পর্যালোচনার জন্য জেলা ও উপজেলায় কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুঠোফোনে জানান, জেলার বন্যা দূর্গতদের জন্য ২৫০ মেঃ টন চাল, ২,৫০,০০০ টাকা, ২০০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দিয়েছেন, পাশাপাশি আশ্রয় কেন্দ্র, নৌকা বন্যাদূর্গতদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জানান, ২২০ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬৫ হাজার বন্যাদূর্গত মানুষকে আনা হয়েছে। আশ্রয়ণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বন্যাদূর্গতদের মাঝে ২০ লক্ষ টাকার খাবার ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। রান্না করা খিচুড়ি বিতরন করা হয়েছে। শুকনো খাবার চিড়া, মুড়ি, গুড় দেয়া হচ্ছে।
স্থানীয় জনগণের ধারণা এবারের বন্যা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।
দূর্গতদের দাবী আরও বেশি করে সাহায্য সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।