রবিবার-২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-১২ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সিডিএ লিংক রোডে ৩৫০ টি অবৈধ স্থাপনা অপসারণ; উচ্ছেদে বাধা দেয়ায় ১০ জনের জেল।

বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সিডিএ লিংক রোডে ৩৫০ টি অবৈধ স্থাপনা অপসারণ; উচ্ছেদে বাধা দেয়ায় ১০ জনের জেল।

 

নিউজ ডেস্কঃ

নগরীর বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সিডিএ লিংক রোড এলাকায় নবনির্মিত ঝুঁকি পূর্ণ ৩৫০ টি স্থাপনা ও বসতি জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর এর যৌথ উদ্যোগে অপসারণ। উচ্ছেদে বাধা-বিঘ্ন সৃষ্টিকারী চক্রের ১০ জনকে ৭ দিনের জেল দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ বুধবার ২৪ জুন সকাল ৯ঃ৩০ টা থেকে বিকাল ৫ঃ০০ টা পর্যন্ত বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম এবিএম আজাদ,এনডিসি এর সভাপতিত্বে গঠিত বিভাগীয় পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের নির্দেশে পরিবেশ অধিদপ্তর এর সমন্বয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ এর সহায়তায় জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বসতি অপসারণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সিডিএ লিংক রোডের দু’পাশে পরিচালিত অভিযানে ১৬ টি পাহাড়ে প্রায় ৩৫০ টি চরম ঝুঁকিপূর্ণ ঘর অপসারণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রতিবছরই বৃষ্টির মৌসুমে ঝুঁকি পূর্ণ পাহাড় ধসে দুর্ঘটনা ঘটে। এবছর নবনির্মিত সিডিএ লিংক রোডের দু’ধারে করোনাভাইরাস দুর্যোগ পরিস্থিতিতে বিগত এপ্রিল-মে মাসে পাহাড় কেটে ব্যক্তিগত ও সরকারি জমিতে (রেলওয়ের জমি, খাস জমি) প্রচুর নতুন ঘর গড়ে তুলেছে যেগুলো চরম ঝুঁকি পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

আজকের অভিযানে বায়েজিদ প্রান্ত এবং সীতাকুণ্ড প্রান্ত থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের দুটি টিম ঝুঁকি পূর্ণ স্থাপনা অপসারণ কার্যক্রম শুরু করে। প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পরিচালিত অভিযান দুপ্রান্ত থেকে শুরু হয়ে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি এলাকায় এসে শেষ হয়। আজকের অভিযানে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সীতাকুন্ড মিল্টন রায় ,সহকারী কমিশনার (ভূমি),কাট্টলী সার্কেল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম ,সহকারী কমিশনার (ভূমি), আগ্রাবাদ সার্কেল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সামাস শিকদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি),চান্দগাও সার্কেল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামনুন আহমেদ অনীক,সহকারী কমিশনার (ভূমি), হাটহাজারী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শরীফ হোসেন।

অভিযানে সিএমপি টিমের নেতৃত্বে ছিলেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার পরিত্রাণ,এসি বায়েজিদ জোন।পরিবেশ অধিদপ্তর এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নুরুল্লাহ নূরী, পরিচালক, মেট্রো; মোয়াজ্জেম হোসেন, পরিচালক (অঞ্চল); উপ-পরিচালক মিয়া মাহমুদ। রেলওয়ের পক্ষে ছিলেন এস্টেট অফিসার মাহবুবুল আলম।

আজকের অভিযানের শুরুতে হাটহাজারী উপজেলাধীন জালালাবাদ মৌজা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সিএমপি পুলিশ বাহিনী সহ জেলা প্রশাসন চট্টগ্রাম এবং পরিবেশ অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থার যৌথ টিম স্থানীয় সন্ত্রাসীদের মদদে ঝুঁকি পূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে। এমনকি এসময় পাহাড় থেকে উচ্ছেদ টিমের অন্তর্ভুক্ত ভূমি অফিসের দুই কর্মীকে সন্ত্রাসী কায়দায় বেদম মারধর করেছে।

পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে উপস্থিত পুলিশ টিম বিশৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। পরে সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় এবং পাহাড়ের ঝুঁকি পূর্ণ স্থাপনা কাজে দায়িত্বরত সরকারি টিমের সদস্যকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় আইনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জড়িত ১০ জনকে ৭ দিন করে জেল দন্ড দেয়া হয়েছে। আজকের অভিযানে ঝুঁকি পূর্ণ ঘরবাড়ি উচ্ছেদের পাশাপাশি বিদ্যুৎ এর ৩০ টি মিটার জব্দ করা হয়েছে। পাহাড়ি ঝুঁকি পূর্ণ স্থাপনায় বিনা মালিকানার জমিতে কীভাবে বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ দেয়া হলো তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্ত করা হবে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on telegram
Telegram
Share on skype
Skype