শনিবার-৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ-২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-৭ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি

আগাম জাতের ধান চাষ ও কাটাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী ড আবদুর রাজ্জাক। ফাইল ছবি।

ঝুঁকি কমাতে হাওরে আগাম জাতের ধান চাষ ও সঠিক সময়ে ধান কাটাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ জন্য কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দিকে নজর দেয়া হচ্ছে, বলেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি।

তিনি বলেন, হাওরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান হয় যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ ধান কোনো বছর আগাম বন্যায় নষ্ট হয়। এ ঝুঁকি কমাতে আমরা কাজ করছি।

১৫ থেকে ২০ দিন আগেই পাকে এমন জাতের ধান চাষে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিক সঙ্কটের কথা চিন্তা করে, দ্রুততার সাথে ধান কাটার জন্য হাওরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার দেয়া হচ্ছে।

২৫ এপ্রিল (রবিবার) কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার সাদরের হাওরে ‘বোরো ধান কাটা উৎসব’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

মিঠামইন উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পরে কৃষিমন্ত্রী ধান কাটার উদ্বোধন করেন ও ধান কাটার যন্ত্র ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও রিপার’ কৃষকের মাঝে বিতরণ করেন।

কৃষকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, হাওরের জমিতে বছরে মাত্র একটি ফসল বোরো ধান হয়। এ ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে হবে।

আমাদের বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে উচ্চফলনশীল জাতের ধান যেমন ব্রিধান ৮৯, ৯২ উদ্ভাবন করেছে। আমরা আপনাদেরকে এসব উন্নত জাতের হাইব্রিড ধানের বীজ দেবো। আপনার এগুলো চাষে এগিয়ে আসবেন।

তিনি আরো বলেন, হাওরে চাষযোগ্য জাতের ধানের জাত উদ্ভাবনের জন্য হাওরে ‘ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের’ আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলমান আছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার কৃষি ও কৃষকবান্ধব। হাওরে সোনার ধানের যে অপরূপ হাসি দেখা যাচ্ছে, দেশের কৃষকের মুখেও সে রকম অমলিন হাসি ধরে রাখতে চায় সরকার।

সেজন্য সরকার কৃষিকে লাভবান ও কৃষকের জীবনমান উন্নত করতে অত্যন্ত উদারভাবে কৃষকদেরকে সার, বীজ, সেচসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে।

উৎপাদন খরচ কমানো ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত করতে ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে কম্বাইন হারভেস্টার, রিপারসহ বিভিন্ন যন্ত্র কৃষকদেরকে দিচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতির ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ,

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ, ব্রি’দর মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর,

বারি’র মহাপরিচালক ড. নাজিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান,

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কিশোরগঞ্জের উপ-পরিচালক মো: ছাইফুল আলম, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সুইট প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on telegram
Telegram
Share on skype
Skype