বৃহস্পতিবার-১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-৯ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

করোনার ২য় ঢেউ মোকাবেলা কার্যক্রমে সুজন।

মোহাম্মদ জুবাইর চট্রগ্রাম

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশেনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় মানুষকে কষ্ট দিয়ে লকডাউট করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউকে গৃহবন্দী রাখতে চান না। তাঁর এই ইচ্ছে ও আকাঙ্খা বাস্তবায়নে চসিক প্রশাসক হিসেবে মাঠে নেমেছি। তাই মানুষকে নয়, করোনাকে লকডাউন করতে চাই। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩১টি নির্দেশনা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, নিজের শরীর, বাড়ি-ঘরসহ নিত্য ব্যবহার যোগ্য সকল কিছু জীবানুমুক্ত করাসহ বাইরে চলাফেরায় মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে। এভাবে করোনাকে লকডাউন করে সকলের মুক্তি ও বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। তিনি আজ নগরীর কর্নেল হাটে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় নাগরিক সচেতনতামূলক অভিযানে একথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, মাস্ক নিজেকে পরতে হবে, অন্যকেউ পরাতে ভূমিকা রাখতে হবে। মাস্ক ছাড়া কেউ বাজারে ঢুকলে তাকে এড়িয়ে চলতে হবে। গণপরিবহনে মাস্ক ছাড়া কোন যাত্রী তোলা যাবে না। ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ এই ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা দাতা ও গ্রহীতাকে অবশ্য মাস্ক পরতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটলে কেউ রেহাই পাবে না।
তিনি হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, মানুষ যদি বেপরোয়া হয় তা নিজেরাই নিজেদের দুঃখ ডেকে আনবে। কোভিড-১৯ একটি ছোঁয়াছে রোগ, একজন থেকে অন্য জনের কাছে সংক্রমিত হয়। এই সহজ কথাটা কেউ না বুঝলে একজন অসচেতন ব্যক্তি দশ জনের মহাবিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই অসচেতন ব্যক্তিকে উচিত শিক্ষা দেয়া একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা।
তিনি সচেতনতামূলক প্রচার অভিযানকালে কর্নেল হাট এলাকায় বহু বিপনী কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এই সময় কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার নির্দেশনা দেন। এখান থেকে তিনি উত্তর কাট্টলী বিশ্বাস পাড়া যান, এবং রোডের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন। তিন রোডের কাজ বিলম্ব হওয়ার কারণ জানতে চান এবং কাজের গতি শ্লথতায় অসন্তোষ প্রকাশ করে কাজের গুণগত মান অক্ষুন্ন রেখে দ্রুত সময়ে কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন। ফেরারপথে তিনি চসিক মোস্তফা হাকিম হাসপাতালও পরিদর্শন করেন। এখানে কর্মরত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন এবং সেবাগ্রহীতাদের ভাল-মন্দের খোঁজ-খবর নেন। তিনি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সকল ধরনের স্বাস্থ্যবিধিমালা মেনে চলার ব্যাপারে চিকিৎসা সেবা গ্রহীতাদের সচেতন থাকার আহবান জানান। এছাড়াও তিনি কাট্টলী ওয়ার্ডের নির্মিতব্য কয়েকটি নির্মাণাধীন কালভাটের কাজ পরিদর্শন করেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন- উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর প্রফেসর ড. নেছার উদ্দিন আহমদ মঞ্জু, সমাজ সেবক আলী আজগর চৌধুরী, সফিউল আলম চৌধুরী, আলাউদ্দিন আহমদ চৌধুরী, মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, আবু তাহের চৌধুরী, সাইফুদ্দিন আহমদ সাকী, মোঃ নুরুদ্দীন চৌধুরী, প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মোহাং ইকবাল চৌধুরী, হাবিবুর রহমান, মোঃ গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, মোঃ আবদুস সালাম, হারুনুর রশীদ, নুরুল কবির চৌধুরী, বিপ্লব দত্ত, আবু সুফিয়ান, অতিরিক্ত প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোঃ মোর্শেদুল আলম চৌধুরী ও পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রনব শর্মা।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on telegram
Telegram
Share on skype
Skype