
রতন বড়ুয়া : কলম একাডেমি লন্ডন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে চট্টগ্রাম অমর একুশে বই মেলায় বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও মত বিনিময় সভা ১৯/২/২৩ রবিবার সন্ধ্যে ৭টায় অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত বই মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে চট্টগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে অক্ষর পাবলিকেশন এন্ড মিডিয়া থেকে একুশে বইমেলা উপলক্ষ্যে প্রকাশিত কবি এস কে বান্টি ও মুজিবুল হক (ভারত), এস এম আইয়ুব আলী,বাসব নন্দী ও সৈয়দ মোহাম্মদ ইলিয়াস সম্পাদিত যথাক্রমে,কলমের আলো, একাত্তর বিজয় বাংলাদেশ,কলমের কথা অক্ষরে অমরতা ও মোহাম্মদ ফিরোজ কবির,বিজুরি ইসলামের যথাক্রমে একক কাব্যগ্রন্থ সিরাতাল মুস্তাকিম ও পরমা নদী,র মোড়ক উম্মোচন।
মত বিনিময় সভা গীতিকার হোসেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও ছড়াকার তাসলিম খাঁ,র সঞ্চালনায় কলম একাডেমি লন্ডন কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক কবি,শিশুসাহিত্যিক কুতুবউদ্দিন বখতেয়ার
এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কলম একাডেমি লন্ডন কেন্দ্রীয় সহ- সভাপতি ও বাংলাদেশ শাখার সভাপতি কবি করুণা আচার্য।
প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কলম
একাডেমি লন্ডন কেন্দ্রীয় কমিটির যোগাযোগ,প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কবি ও প্রাবন্ধিক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।
এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন,কবি ও নজরুল গবেষক এবিএম ফয়েজ উল্লাহ,কবি আরিফ চৌধুরী,কবি আলমগীর হোসাইন,গীতিকার আবদুল হাকিম,অধ্যাপক হারুনুর রশিদ,কবি বেলাল হোসেন, ছড়াকার প্রদ্যোত কুমার বড়ুয়া,পরিবেশ চিন্তক মাসুদ রানা,আবৃত্তিকার সোমা মুৎসুদ্দি, ইতিহাস৭১এর নির্বাহী সম্পাদক সাংবাদিক রতন কুমার বড়ুয়া প্রমুখ।
প্রধান অতিথি কবি করুণা আচার্য বলেন,একজন কবি সব সময় সমাজের মুক্তির কথা বলেন, কবিরা সমাজ পরিবর্তনে ভুমিকা রাখেন তবু ও তাঁরা অবহেলিত।তিনি কলম একাডেমি লন্ডনের পাশে থেকে সাহিত্য ও মানব কল্যাণ মুলক কর্মকান্ডে নিজকে সম্পৃক্ত করে মানুষ ও মানবতার কল্যানের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রধান আলোচক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, সাহিত্যের মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবন প্রবাহের বিচিত্র ও জটিল অভিজ্ঞতা সমূহকে মন্থন করি কোনো ‘বিশেষ সৃজন’ রূপে আমরা তা প্রকাশ করি।
কবি লেখকরা আলোকিত সমাজ নির্মান করে সমাজের অবক্ষয় রোধে ভুমিকা রাখে ও সমাজকে সঠিক দিক নির্দেশনা দেয় এরপর ও লেখক সমাজ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত,উপেক্ষিত।
তিনি বলেন,হৃদয়-মনের অনুভূতির ভাষাগত রূপায়ণ মুলত সাহিত্য। আবেগ,চেতনাকে সুন্দর,চিত্তাকর্ষক শব্দের বিন্যাসের মাধ্যমে ব্যক্ত করা হয় সাহিত্যে।মানব সমাজের সাথে সাহিত্যের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। জীবনের মূল্যমান নির্ধারণ ও বিনির্মাণে তার ভূমিকা অত্যন্ত প্রবল।
মানুষের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যবোধ ও সৌন্দর্যচেতনাকে উজ্জীবিত,উচ্ছ্বসিত ও উদ্ভাসিত করে তুলতে সক্ষম। সৌন্দর্য চেতনাকে ভারসাম্যময় এবং জীবনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বানাতে এবং উচ্চ মানসম্মত লালিত্য ও সুধাময় করে তোলাও মুলত সাহিত্যেরই অবদান।
মানুষের মধ্যে নৈতিক চেতনা জাগ্রতকরণ এবং তার লালন ও উৎকর্ষ সাধন সাহিত্যেরই কীর্তি। কুপ্রবৃত্তির ওপর সুস্থ বিবেকবুদ্ধির বিজয় অর্জন এবং পরিশীলিত রুচিবোধ সৃষ্টি ও তাকে সৌন্দর্য মণ্ডিত করার ক্ষেত্রে সাহিত্যের দায়িত্ব ও কর্তব্য অসামান্য। তিনি আরও বলেন,
সভ্যতা ও সংস্কৃতির মানকে উন্নত করার দায়িত্ব ও তারই ওপর অর্পিত।
মানব চিত্তের চেতন,অবচেতন ও অচেতন অবস্থার মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করে দুর্বলতাগুলোকে সুস্পষ্টরূপে দেখিয়ে দেয়া ও সাহিত্যেরই কাজ।
একজন কবি ও সাহিত্যিকের সে ধরনের কর্মকান্ড করা উচিত যা সমাজকে আলোকিত করে। কলম একাডেমি লন্ডনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক বিশ্বময় বাংলা ভাষার প্রচার,প্রসারে যে ভুমিকা রাখছেন তিনি তার ও প্রশংসা করেন।
সভাপতি কবি কুতুবউদ্দিন বখতেয়ার বলেন,কবি, কবিতা হয়ে উঠুক সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার।তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভাপতি সেই আলোকে সবাইকে আগামীতে যে কোন অনুষ্ঠান সফল করার জন্য অনুরোধ জানান,সকলের উপস্থিতি ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
সবশেষে কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠ অনুষ্ঠান ও চা চক্রের আয়োজন করা হয় ।