
নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের ইনিংসের শুরু আর শেষটা যেন আকাশ-পাতাল পার্থক্য। ১ রানে নেই ১ উইকেট। সেখানে পরের তিন ব্যাটসম্যানই করলেন সেঞ্চুরি। আরেক জন উপহার দিলেন হাফ-সেঞ্চুরি। নেদারল্যান্ডসের বোলারদের তুলোধুনা করে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের ইতিহাস নতুন করে ইংল্যান্ড লিখল ইংল্যান্ড। ডাচরা যেতে পারল না ধারাকাছেও।
ইংল্যান্ডের সাদা বলের কোচ হিসেবে ম্যাথু মটের শুরুটা হলো দারুণ। প্রায় এক বছর পর ওয়ানডে খেলতে নেমে ১৭ জুন(শুক্রবার ) আমস্টেলভিনে ইংলিশরা জিতল ২৩২ রানে। এই সংস্করণে রানের দিক থেকে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় বড় জয় এটি। সবচেয়ে বড় জয় এসেছিল ২০১৮ সালে, ট্রেন্ট ব্রিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৪২ রানে। চার বছর আগের সেই ম্যাচের ৪৮১ রানের নিজেদের রেকর্ড পেছনে ফেলে এবার ইংল্যান্ড করে ৪৯৮, ৪ উইকেট হারিয়ে।
ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে ফিল সল্ট ১২২ ও দাভিদ মালান করেন ১২৫ রান। চার নম্বরে নেমে মাত্র ৭০ বলে ১৪ ছক্কা ও ৭ চারে অপরাজিত ১৬২ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা জস বাটলার। ইংল্যান্ডের হয়ে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়ে ২২ বলে ৬টি করে চার-ছক্কায় লিয়াম লিভিংস্টোন করেন অপরাজিত ৬৬ রান।
রান তাড়ায় ডাচরা শেষ ওভার পর্যন্ত খেললেও অনুমিতভাবেই যেতে পারেনি লক্ষ্যের ধারেকাছে। ম্যাক্স ও’ডাওড ও স্কট এডওয়ার্ডসের ফিফটিতে স্বাগতিকরা অলআউট হয় ২৬৬ রানে।
ডাচদের মাটিতে নিজেদের প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারে জেসন রয়কে হারায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় উইকেটে ২২২ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন সল্ট ও মালান। সল্ট অবশ্য জীবন পান ৪০ রানে। ৩৯ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর তিনি তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ৮২ বলে। জুটিও ভাঙে তার বিদায়ে। ৯৩ বলে ১৪ চার ও ৩ ছক্কায় গড়া তার ১২২ রানের ইনিংস। মালান সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৯০ বলে। বাটলারের পর ইংল্যান্ডের পুরুষ দলের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরি পেয়ে গেলেন তিনি।
৩৭ রানে থেমে যেতে পারত বাটলারের ইনিংস। তিনি জীবন পান নাদিম মুসা ক্যাচ ফেলে দেওয়ায়। ২৭ বলে তিনি স্পর্শ করেন পঞ্চাশ। ৪৭ বলে সেঞ্চুরি, ইংল্যান্ডের হয়ে যা দ্বিতীয় দ্রুততম। মালান বিদায় নেন ১০৯ বলে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় গড়া ১২৫ রানের ইনিংস খেলে। ডাচ অধিনায়ক পিটার সিলারের পরের বলেই ‘গোল্ডেন ডাক’ এর তেতো স্বাদ পান ইংল্যান্ড অধিনায়ক ওয়েন মর্গ্যান। হ্যাটট্রিক আটকে দেওয়ার পর শুরু হয় লিভিংস্টোনের তাণ্ডব। বোয়াসেভেনের পরের ওভারে তিনি ৪টি ছক্কা ও দুটি চারে তোলেন ৩২ রান।
এক সময় তার রান ছিল ১৩ বলে ৪৬। এবি ডি ভিলিয়ার্সের দ্রুততম ১৬ বলে ফিফটির রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার হাতছানি। পরের বলে বাউন্ডারিতে জীবন পেয়ে নেন আরও দুই রান। কিন্তু পরের দুই বল ডট খেলে আর হয়নি তার রেকর্ড গড়া। তবে পেছনে ফেলেন ইংল্যান্ডের হয়ে ২১ বলে ফিফটি করা মর্গ্যান ও জনি বেয়ারস্টোর রেকর্ড। ইনিংসের শেষ দুই বলে লিভিংস্টোনের চার-ছক্কায় সফরকারীদের রান চলে যায় পাঁচশর কাছে।
ওয়ানডেতে প্রথম দল হিসেবে শুধু বাউন্ডারি থেকেই ইংল্যান্ড করল ৩০০ রান, ৩৬ চার ও ২৬ ছক্কা। এই ২৬ ছক্কাও রেকর্ড। পেছনে পড়ে গেল ২০১৯ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডেরই গড়া ২৫ ছক্কার রেকর্ড। ওয়ানডেতে প্রথমবার তিন ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি পাওয়া ইংল্যান্ডের ইনিংসের পরই একরকম নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের ফল। নেদারল্যান্ডস হারের ব্যবধান কতটা কমাতে পারে, সেটিই ছিল দেখার।
বড় রান তাড়ায় তৃতীয় ওভারে বিক্রমজিত সিংকে হারায় ডাচরা। এরপর তারা উইকেট হারায় নিয়মিত। মাঝে ও’ডাওড ও এডওয়ার্ডস ছাড়া বলার মতো কিছু করে দেখাতে পারেননি আর কেউ। ৫৫ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৫৫ রান করেন ওপেনার ও’ডাওড। ছয় নম্বরে নেমে ৫৬ বলে ৫ চার ও এক ছক্কায় ৭২ রানে অপরাজিত ছিলেন এডওয়ার্ডস। তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৮ রান আসে বাস ডে লেডের ব্যাট থেকে। ৫৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সফলতম বোলার মইন আলি। ডেভিড উইলি, রিস টপলি ও স্যাম কারানের প্রাপ্তি ২টি করে।
এই জয়ে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠল ইংল্যান্ড (১০৫ পয়েন্ট)। ১২০ পয়েন্ট নিয়ে চূড়ায় বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয়টি হবে আগামী রবিবার, একই মাঠে। এই সিরিজে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ মর্গ্যানের দলের সামনে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৪৯৮/৪ (রয় ১, সল্ট ১২২, মালান ১২৫, বাটলার ১৬২*, মর্গ্যান ০, লিভিংস্টোন ৬৬*; ফন বিক ১০-০-৮২-১, স্নাটার ১০-০-৯৯-১, সিলার ৯-০-৮৩-২, ডে লেডে ৫-০-৬৫-০, বোয়াসেভেন ১০-০-১০৮-০, আরিয়ান ৬-০-৫৫-০)
নেদারল্যান্ডস: ৪৯.৪ ওভারে ২৬৬ (বিক্রমজিত ১৩, ও’ডাওড ৫৫, মুসা ২১, কুপার ২৩, ডে লেডে ২৮, এডওয়ার্ডস ৭২*, ফন বিক ৬, সিলার ২৫, স্নাটার ৪, আরিয়ান ০, বোয়াসেভেন ৫; উইলি ১০-০-৪২-২, টপলি ১০-০-৪৬-২, কারান ৯-০-৪৬-২, মইন ১০-০-৫৭-৩, রশিদ ১০-০-৫৯-০, মালান ০.৪-০-৫-১)
ফল: ইংল্যান্ড ২৩২ রানে জয়ী
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে ইংল্যান্ড
ম্যান অব দা ম্যাচ: জস বাটলার