রবিবার-২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-১২ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

আগামি সপ্তাহেই টিকা পাচ্ছেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

ইতিহাস ৭১ ডেস্ক : সারাদেশে করোনার টিকাদান কর্মসূচির তৃতীয় দিন আজ। এরই মধ্যে টিকা নিয়েছেন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, চিকিৎসক, রাজনীতিক ও সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ নিচ্ছেন এই টিকা।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় চার লাখ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে ক্লিনিকে ভ্যাকসিন বিতরণ নিয়ে আলাপকালে একথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক আগেই আমাদের এখানে ভ্যাকসিন নিয়ে আসায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এবং এর আগেও আমাকে ফোন করে বলেছেন তোমার সব শিক্ষককে টিকা দিয়ে নাও, যেহেতু আমরা যেকোনো সময় স্কুল খুলে দেব। যাতে আমার কোনো শিক্ষক টিকার আওতার বাইরে না থাকেন।’

জাকির হোসেন বলেন, ‘শিক্ষকদের টিকার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা যেকোনো সময়, অর্থাৎ আজ থেকে সাতদিনের মধ্যে টিকা নেওয়া শেষ করব। আমি নিজেও নিয়েছি, আমাদের সচিবালয়ের সবাই নিয়েছে। কোনো রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব আমার শিক্ষকদের, আমার মন্ত্রণালয়ের আওতায় যারা আছেন, ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে যারা পড়বেন, তাদের টিকা নেয়ার জন্য অনুরোধ করব।’এ সময় শিক্ষকদের যথাসময়ে টিকা নিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এগিয়ে আসতে এবং সবাইকে মাস্ক ব্যবহারেরও আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে, টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর থেকে সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত টিকা গ্রহণ করেছেন ৭৭ হাজার ৬৬৯ জন। এর মধ্যে প্রথম দিন ৩১ হাজার ১৬০ জন ও দ্বিতীয় দিনে দেড়গুণ বেড়ে টিকা গ্রহণ করেন ৪৬ হাজার ৫০৯ জন। গতকাল ৯২ জনের সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দেশব্যাপী গণহারে টিকা প্রয়োগ কর্মসূচির উদ্বোধন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এদিন কার্যক্রম উদ্বোধনের পর মহাখালীর গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে টিকা নেন মন্ত্রী নিজেই।

এ সময় প্রয়োগকৃত ভ্যাকসিন সবচেয়ে নিরাপদ দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা এক মাসের কাজ নয়। চলমান ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সারা বছর চলবে। ভ্যাকসিন নিয়ে কোনো সমালোচনা নয়। করোনার টিকা পেতে ছয় মাস সময় লাগবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে কোভাক্স (করোনার টিকা) আসবে, সেই টিকা দেয়া হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই ভ্যাকসিন খুবই নিরাপদ, যতগুলা ভ্যাকসিন আছে তাদের ভেতর এটা সবচেয়ে নিরাপদ। এর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে। আমরা হাজার হাজার মানুষকে ভ্যাকসিন দেব, লাখও ছাড়িয়ে যেতে পারে।’

রাজধানীতে ৬৫টি স্থানসহ সারাদেশে ১ হাজার ১৫টি কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি চলছে। ঢাকার বাইরে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলিয়ে ৯৫৯টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জায়গায় ২ হাজার ১৯৬টি দল টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দুজন স্বাস্থ্যকর্মী এবং দুজন স্বেচ্ছাসেবক মিলিয়ে প্রতিটি দলে চারজন সদস্য থাকছেন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on telegram
Telegram
Share on skype
Skype