বৃহস্পতিবার-৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ-২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-৫ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি

কিশোরীর কানের দুলের মত দক্ষিণা হাওয়ায় দুলতে থাকে সোনালু ফুল

আল মামুন ঘিওর মানিকগঞ্জ:

ঘিওর উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার ধারে ফুটেছে সোনালু ফুল। এ ফুল পথচারী ও ফুল প্রেমীদের নজর কাড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়কের বেশ কয়েক স্থানে ফুটে আছে নজরকাড়া সোনালু ফুল।

সোনাঝরা এই ফুলের নাম সোনালু। কিশোরীর কানের দুলের মতো দক্ষিণা হাওয়ায় দুলতে থাকে হলুদ-সোনালি রঙের থোকা থোকা ফুল। আবার ফুলের ফাঁকে দেখা যায় লম্বা ফল। হলুদবরণ সৌন্দর্যে মাতোয়ারা করে রাখে চারপাশ।

খরতাপে চলতি পথে পথিকের নজর কাড়বেই। গ্রীষ্মের প্রকৃতিতে প্রাণের সজীবতা নিয়ে যেসব ফুল ফোটে তার মধ্যে সোনালু উল্লেখযোগ্য। গ্রীষ্ম রাঙানো এ ফুল দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমনি তার নামের বাহার- সোনালু, সোনাইল, সোঁদাল, বান্দরলাঠি ইত্যাদি।

 

সোনালু ফুলের ইংরেজি নাম- Golden Shower Tree, বৈজ্ঞানিক নাম- Cassia fistula। Caesalpiniaceae পরিবারের সদস্য। আদিনিবাস পূর্ব এশিয়া।

তবে হাজার বছর আগেও এ গাছ আমাদের উপমহাদেশে ছিল। মহাকবি ব্যাস-এর ভগবত কিংবা কালিদাস-এর মেঘদূত-এ এই ফুলের গুণকীর্তন করা হয়েছে।

এ গাছের কাঠ জ্বালানি ছাড়াও অন্যান্য কাজে লাগে। ফলের শাঁস বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসেবে কাজে লাগে। বাত, বমি ও রক্তস্রাব প্রতিরোধে উপকারী। বীজ সহজেই অঙ্কুরিত হয়, যদিও বৃদ্ধি মন্থর। এছাড়াও এ গাছের বাকল, রঙ ও ট্যানিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়।

গ্রীষ্মের প্রকৃতিতে গ্রামে একসময় অনেক সোনালু গাছ চোখে পড়তো। এছাড়াও হাট, বাজার ও গঞ্জের চারপাশেও দেখা যেত হলুদিয়া সাজের সোনালুর উপস্থিতি। এখন হাতেগোনা কিছু গাছ দেখা যায় পথে প্রান্তরে। দিন দিন কমে আসছে সোনালুর সংখ্যা।

সোনালু গাছ সাধারণত যত্ন করে লাগানো হয় না বরং সে নিজেই বেড়ে ওঠে অযত্নে অবহেলায়। নিরবে বেড়ে ওঠে, থাকেও নিষ্প্রাণ নির্ঝঞ্ঝাটভাবে। যখন ফুল ফোটে তখন কারো সাধ্য নেই এই গাছকে দৃষ্টি না দিয়ে এড়িয়ে যাবার। বেড়ে ওঠার সময় তেমন দৃষ্টিতে না পড়লেও ফুল ফোটার পর দেখে সবার মন-প্রাণ প্রশান্তিতে ভরে যায়।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on telegram
Telegram
Share on skype
Skype